হাদীসে আরবাঈন বা মহানবী সাঃএর ৪০ হাদীসের ফজিলতঃ

হাদীসে আরবাঈন বা মহানবী সাঃএর ৪০ হাদীসের ফজিলত


এই আমলটি হতে পারে জান্নাতে যাওয়ার একটি সহজ রাস্তা। খোদা ভীরু লোকদের জন্য আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআলা অনেক কিছুই সহজ করে দেন। মহানবী সাঃএর ৪০ হাদীস এর ফজিলত বা হাদীসে আরবাঈন তেমনই একটি আমল, যা করে অতি সহজেই আপনি জান্নাতি মেহমান হতে পারেন।


৪০ হাদীসের আমলটি আমি এখানে কনটেন্ট আকারে সাজিয়েছি যাতে করে অতি সহজেই আমরা সকলে এই আমলের সাথে যুক্ত হতে পারি।


আমলটির নাম হলো হাদীসে আরবাঈন বা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  ৪০ হাদীসের ফজিলতঃ


হাদীস শরীফে আছে-

যে কেউ মহানবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেকোনো ৪০টি হাদীস হেফাজত করবে বা অন্যকে শুনাবে অথবা লিখে প্রচার করবে, তাকে আল্লাহ তা'য়ালা কিয়ামত দিবসে ওলামা ও ফকিহ গণের দলভুক্ত করে উঠাবেন এবং স্বয়ং মহানবী শাফীয়ে হাশার সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্যে সুপারিশকারী ও সাক্ষী হবেন। আল্লাহু আকবার।


অপর বর্ণনায় আছে যে, তাকে শহীদগণের দলে হাশর করানো হবে। আল-হামদুলিল্লাহ।


অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে যে, তাকে বলা হবেঃ তুমি জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করে যাও। সুবাহানাল্লাহ।


জান্নাতুল ফেরদাউস এর আশায় প্রচারের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ৪০টি সহীহ হাদীস নীচে সংযুক্ত করিলাম (আলহামদুলিল্লাহ)।


(মহানবী সাঃএর ৪০ হাদীসের ফজিলত সম্পর্কিত পোষ্টটি সবাই শেয়ার করে শরীক হবেন ইনশাআল্লাহ)


হাদীসে আরবাঈন বা মহানবী সাঃএর ৪০ হাদীসঃ


(১) 

৭। "উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।

১। আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান।

২। সালাত (নামাজ) কায়েম করা

৩। যাকাত দেওয়া

৪। হাজ্জ (হজ্ব) করা এবং

৫। রামাদান এর সিয়াম পালন করা।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২)

 ৮। "আবদুল্লাহ ইবনু জু’ফী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশি। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ), বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৩)

১০। "সা’ঈদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ আল উমাবী আল কুরাশী (রহঃ) ... আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইসলামে কোন্ কাজটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ মূসা আল- আশ'আরী (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৪)

১২। "মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ও হুসাইন আল মু’আল্লিম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৫)

৬৯। "মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনাকৃত হাদীস, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (দ্বীনের ব্যাপারে) সহজ পন্থা অবলম্বন করবে, কঠিন পন্থা অবলম্বন করবে না, মানুষকে সুসংবাদ শোনাবে, বিরক্তি সৃষ্টি করবে না।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৬)

৯০। "মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) ... আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, একবার এক ব্যাক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সালাতে (জামাতে) শামিল হতে পারি না। কারণ অমুক ব্যাক্তি আমাদের নিয়ে খুব লম্বা করে সালাত (নামাজ) আদায় করেন। আবূ মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন ওয়াযের মজলিসে সেদিনের তুলনায় বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি কর। অতএব যে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে সে যেন সংক্ষেপ করে। কারন তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোকও থাকে।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) ) সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৭)

৯৫। "আবদা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কথা বলতেন তখন তা তিনবার বলতেন যাতে তা বুঝে নেওয়া যায়। আর যখন কোন কওমের নিকট এসে সালাম করতেন, তাদের প্রতি তিনবার সালাম করতেন।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৮)

৯০৪। "উবাইদ ইবনু ইসমায়ীল (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, (একদিন আমার ঘরে) আবূ বকর (রাঃ) এলেন তখন আমার নিকট আনসার দু’টি মেয়ে বু’আস যুদ্ধের দিন আনসারীগণ পরস্পর যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে কবিতা আবৃত্তি করছিল। তিনি বলেন, তারা কোন পেশাগত গায়িকা ছিল না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে শয়তানী বাদ্যযন্ত্র। আর এটি ছিল ঈদের দিন। তখন রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বকর! প্রত্যেক জাতির জন্যই আনন্দ উৎসব রয়েছে আর এ হল আমাদের আনন্দ।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৯)

৯০৫। "মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) খেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অপর এক রিওয়াতে আনাস (রাঃ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তা বেজোড় সংখ্যক খেতেন।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) 


(১০)

৯২০। "মুহাম্মদ (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেওয়া হত। এমন কি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল থেকে বের করতাম এবং ঋতুমতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকতো এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলতো এবং তাদের দু’আর সাথে দু’আ করত-তারা আশা করত সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতা।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(১১)

৯২৯। "মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, (‌ঈদের দিন) আমাদেরকে বের হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাই আমরা ঋতুমতী, যুবতী এবং তাবুতে অবস্থানকারীনী মহিলাগণকে নিয়ে বের হতাম। ইবনু আওন (রহঃ) এর এক বর্ণনায় রয়েছে, অথবা তাবুতে অবস্থানকারীনী যুবতী মহিলাগণকে নিয়ে বের হতাম। অতঃপর ঋতুমতী মহিলাগণ মুসলিমদের জামা’আত এবং তাদের দুআতে অংশ গ্রহন করতেন। তবে ঈদগাহে পৃথকভাবে অবস্থান করতেন।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(১২)

৯৬৮। "আবূ নু’আইম (রহঃ) ... আব্বাদ ইবনু তামীম তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির দু’আর জন্য বের হলেন, কিবলামুখী হয়ে দু’আ করলেন এবং নিজের চাঁদরখানি উল্টে দিলেন। তারপর দু’রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তিনি উভয় রাকা’আত সশব্দে কিরাআত পাঠ করলেন।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আব্বাদ ইবনু তামীম (রহঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(১৩)

১১৬৬। "উমর ইবনু হাফ্‌স (রহঃ) ... আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর সঙ্গে শির্‌ক করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যে আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুর শির্‌ক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ‌ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(১৪)

১১৬৯। "বিশ্‌র ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ সালামা (রহঃ) বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) আমাকে বলেছেন, (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের খবর পেয়ে) আবূ বক্‌র (রাঃ) ’সুন্‌হ’-এ অবস্থিত তাঁর বাড়ি থেকে ঘোড়ায় চড়ে চলে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকদের সাথে কোন কথা না বলে আয়িশা (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি ’হিবারাহ’ ইয়ামানী চাঁদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। আবূ বক্‌র (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমণ্ডল উম্মুক্ত করে তাঁর উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, তারপর কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া নবী আল্লাহ! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্রিত করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল তা তো আপনি কবুল করেছেন।


আবূ সালামা (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, (তারপর) আবূ বক্‌র (রাঃ) বেরিয়ে এলেন। তখন উমর (রাঃ) লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। আবূ বক্‌র (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবূ বক্‌র (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন , তিনি তা মানলেন না। তখন আবূ বক্‌র (রাঃ) কালিমা-ই-শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করলেন। লোকেরা উমর (রাঃ)-কে ছেড়ে তাঁর দিকে আকৃষ্ট হন। আবূ বক্‌র (রাঃ) বললেন আম্‌মা বা’দু, তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মদ এর ইবাদত করতে, মুহাম্মদ সত্যই ইন্‌তিকাল করেছেন। আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করতে, নিশ্চয়ই আল্লাহ চিরঞ্জিব, অমর।


মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ‏(‏وَمَا مُحَمَّدٌ إِلاَّ رَسُولٌ‏)‏ إِلَى ‏(‏الشَّاكِرِينَ‏) অর্থাৎ মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র ...... শাকিরীন পর্যন্ত। (৩ঃ ১১৪) আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবূ বক্‌র (রাঃ)-এর তিলাওয়াত করার পূর্ব পর্যন্ত লোকদের জানাই ছিল না যে, আল্লাহপাক এ আয়াত নাযিল করেছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াতখানি তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলাওয়াত করতে শোনা গেল।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(১৫)

১১৭৬। "আবূ মা’মার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান সাবালিগ হওয়ার আগে মারা গেলে তাদের প্রতি রহমত স্বরূপ অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যাক্তিকে জান্নাতে দাখিল করবেন।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(১৬)

১৩১৫। "মুহাম্মদ ইবনু ’আবদুর রাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, এক মরুবাসী সাহাবী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে উপস্থিত হয়ে বললেন, আমাকে এমন আমলের পথনির্দেশ করুন যা আমল করলে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবেনা, (পাঁছ ওয়াক্ত) ফরয সালাত (নামায) আদায় করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে ও রমযানের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে। সাহাবী বললেন, আমার প্রাণ যাঁর হাতে তাঁর কসম, আমি এর উপর বৃদ্ধি করব না। তিনি যখন ফিরে গেলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কেউ যদি জান্নাতী লোক দেখতে আগ্রহী হয় সে যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখে।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(১৭)

১৩২৯। "আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমাদের মধ্যে সম্পদ বৃদ্ধি পেয়ে উপচে না পড়বে, এমনকি সম্পদের মালিকগণ তার সা’দকা কে গ্রহণ করবে তা নিয়ে চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়বে। যাকেই দান করতে চাইবে সে-ই বলবে, প্রয়োজন নেই।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(১৮)

১৮৮৭। "আলী ইবনু ’আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি রমযানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয় এবং যে ব্যাক্তি ঈমানের সাথে, সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায) আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়।

সুলায়মান ইবনু কাসীর (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(১৯)

১৯২৯। "আহমদ ইবনু মিকদাম ইজলী (রহঃ) ... উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, কিছু সংখ্যক লোক বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বহু লোক আমাদের কাছে মাংস নিয়ে আসে, আমরা জানি না, তারা বিসমিল্লাহ্ পড়ে যবেহ করেছিলো কিনা? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এর উপর মহান আল্লাহ্ তা’আলার নাম লও এবং তা খাও (ওয়াসওয়াসার শিকার হয়োনা)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২০)

২১১৬। "হাজ্জাজ ও আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার দু’জন প্রতিবেশী রয়েছে, তাদের মধ্যে কাকে আমি হাদীয়া দিব? তিনি বললেন, উভয়ের মধ্যে যার দরজা তোমার বেশী কাছে।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


২১৩৪। "মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা নিয়েছিলেন এবং শিঙ্গা প্রয়োগকারীকে তার পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২১)

৬৮৭৬। "মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় প্রতিপালককে দেখেছে, অবশ্যই সে মিথ্যা বলল। কেননা তিনি (আল্লাহ) বলছেন, চক্ষুরাজি কখনো তাকে দেখতে পায় না। আর যে ব্যাক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েব জানেন, অবশ্য সেও মিথ্যা বলল। কেননা তিনি (আল্লাহ) বলেন, গায়েব জানেন একমাত্র আল্লাহ।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২২)

১৭৭২। "কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ’আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, জাহিলী যুগে কুরায়শগন ’আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও পরে এ সাওম পালনের নির্দেশ দেন। অবশেষে রমযানের সিয়াম ফরজ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার ইচ্ছা ’আশূরার সিয়াম পালন করবে এবং যার ইচ্ছা সে সাওম পালন করবে না।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২৩)

১৮২২। "আদম (রহঃ) ... জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন, হঠাৎ তিনি লোকের জটলা এবং ছায়ার নিচে এক ব্যাক্তিকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেনঃ এর কী হয়েছে? লোকেরা বলল, সে সায়িম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সফরে সাওম পালনে কোন নেকী নেই।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ), সহীহ বুখারী


(২৪)

১৯০২। "কুতায়বা (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী ’আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে থাকাবস্থায় আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি যখন ইতিকাফে থাকতেন তখন প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২৫)

১৯২৮। "আবূ নু’আঈম (রহঃ) ... আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচা (আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম) (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ব্যাক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কালে তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) ভঙ্গের কিছু হয়েছে বলে মনে হয়, এতে কি সে সালাত ছেড়ে দেবে? তিনি বলেন, না, যতক্ষন না সে আওয়াজ শুনে বা দুর্গন্ধ টের পায় অর্থাৎ নিশ্চিত হয়। ইবনু আবূ হাফসা (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ননা করেন, তুমি গন্ধ না পেলে অথবা আওয়াজ না শুনলে উযূ করবে না।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২৬)

১৯৩৭। "মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ইয়াকুব কিরমানী (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তার মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্নীয়ের সঙ্গে সদাচরন করে।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২৭)

২১১৯। "আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ মক্কী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা এমন কোন নবী পাঠাননি, যিনি বকরী চরাননি। তখন তাঁর সাহাবীগন বলেন, আপনিও? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমি কয়েক কীরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের বকরী চরাতাম।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২৮)

২১২৬। "ইউসুফ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যাক্তির বিরোধী থাকব। তাদের এক ব্যাক্তি হল, যে আমার নামে প্রতিজ্ঞা করল, তারপর তা ভঙ্গ করল। আরেক ব্যাক্তি হল যে আযাদ মানুষ বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। অপর এক ব্যাক্তি হল, যে কোন লোককে মজদুর নিয়োগ করল, এবং তার থেকে কাজ পুরাপুরি আদায় করল, অথচ তার পারিশ্রমিক দিল না।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(২৯)

২১৪০। "মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুকে পাল দেওয়ানো বাবদ বিনিময় নিতে নিষেধ করেছেন।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৩০)

২২৩২। "আবূ ওয়ালীদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, জনৈক ব্যাক্তি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার পাওনা আদায়ের কড়া তাগাদা দিল। সাহাবায়ে কিরাম তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলেন। তিনি বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারের কথা বলার অধিকার রয়েছে। তার জন্য একটি উট কিনে আন এবং তাকে তা দিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, তার উটের চাইতে বেশী বয়সের উট ছাড়া আমরা পাচ্ছি না। তিনি বললেন, সেটিই কিনে তাকে দিয়ে দাও। কারণ, তোমাদের উত্তম লোক সেই, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৩১)

২২৩৯। "ইসমাঈল (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে এই বলে দু’আ করতেনঃ হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে গুনাহ এবং ঋণ থেকে পানাহ্ চাচ্ছি। একজন প্রশ্নকারী বলল, (ইয়া রাসূলাল্লাহ)! আপনি ঋণ থেকে এত বেশী বেশী পানাহ্ চান কেন? তিনি জওয়াব দিলেন, মানুষ ঋণগ্রস্ত হলে যখন কথা বলে মিথা বলে এবং ওয়াদা করলে তা খেলাফ করে।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ), সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


(৩২)

২৩৩১। "ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের জমি ইয়াহূদীদেরকে এ শর্তে বর্গা দিয়েছিলেন যে, তারা তাতে পরিশ্রম করে কৃষি কাজ করবে এবং উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তারা পাবে। (২২৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ  ২১৮০)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ), সহীহ বুখারী


(৩৩)

৭৩। "ক্বায়স বিন হাযিম (রহ.) বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেবল দু’টি বিষয়ে ইর্ষা করা বৈধ; (১) সে ব্যক্তির উপর, যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তাকে বৈধ পন্থায় অকাতরে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন; (২) সে ব্যক্তির উপর, যাকে আল্লাহ্ তা’আলা প্রজ্ঞা দান করেছেন, অতঃপর সে তার মাধ্যমে বিচার ফায়সালা করে ও তা অন্যকে শিক্ষা দেয়। (১৪০৯,৭১৪১,৭৩১৬; মুসলিম ৬/৪৭ হাঃ ৮১৬, আহমাদ ৩৪৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ ক্বায়স ইবন আবু হাযিম (রহ.), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)


(৩৪)

৭৬। "আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেনঃ আমি সাবালক হবার নিকটবর্তী বয়সে একদা একটি গাধীর উপর আরোহিত অবস্থায় এলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মিনায় সালাত আদায় করছিলেন তার সামনে কোন দেয়াল না রেখেই। তখন আমি কোন এক কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং গাধীটিকে বিচরণের জন্য ছেড়ে দিলাম। আমি কাতারের ভেতর ঢুকে পড়লাম কিন্তু এতে কেউ আমাকে নিষেধ করেননি। (৪৯৩, ৮৬১, ১৮৫৭, ৪৪১২; মুসলিম ৪/৪৭ হাঃ ৫০৪, আহমাদ ১৮৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)


(৩৫)

১০৬। "আলী (রাযি.) হতে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার উপর মিথ্যারোপ করো না। কারণ আমার উপর যে মিথ্যারোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে। (মুসলিম মুকাদ্দামা, দ্বিতীয় অধ্যায়, হাঃ ২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৭)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)


(৩৬)

১২০। "আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দু’পাত্র ‘ইলম আয়ত্ত করে রেখেছিলাম। তার একটি পাত্র আমি বিতরণ করে দিয়েছি। আর অপরটি এমন যে, প্রকাশ করলে আমার কণ্ঠনালী কেটে দেয়া হবে। ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, হাদীসে উল্লিখিত الْبُلْعُومُ শব্দের অর্থ খাদ্যনালী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)


(৩৭)

১২৪। "আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেনঃ আমি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখলাম, জামরাহর নিকট তাঁকে মাসআলা জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি কংকর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি।’ তিনি বললেনঃ ‘কঙ্কর মার, তাতে কোন ক্ষতি নেই।’ অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল!  আমি কুরবানী করার পূর্বেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি।’ তিনি বললেনঃ ‘কুরবানী করে নাও, কোন ক্ষতি নেই।’ বস্তুত আগ পিছ করার যে কোন প্রশ্নই তাঁকে করা হচ্ছিল, তিনি বলছিলেনঃ ‘কর, কোন ক্ষতি নেই।’ (৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৬)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)


(৩৮)

১১৮৯। "আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত হাদীস। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুর রাসূল এবং মাসজিদুল আকসা (বায়তুল মাক্দিস) তিনটি মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে (সালাতের) উদ্দেশে হাওদা বাঁধা যাবে না (অর্থাৎ সফর করা যাবে না)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১১১-১১১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১১৬ শেষাংশ)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)


(৩৯)

২৪৩১। "আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তায় পড়ে থাকা খেজুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার যদি আশঙ্কা না হত যে এটি সাদাকার খেজুর তাহলে আমি এটা খেতাম। (২০৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৬৯)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)


(৪০)

৫০৮১। "উরওয়াহ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর বিয়ের পয়গাম দিলেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি আপনার ভাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আমার আল্লাহর দ্বীনের এবং কিতাবের ভাই। কিন্তু সে আমার জন্য হালাল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১০)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ উরওয়াহ (রহঃ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)


৫০৬৯। "সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, বিয়ে কর। কারণ, এই উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির অধিক সংখ্যক স্ত্রী ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৯)।"


হাদিসের মানঃ সহিহ, বর্ণনাকারীঃ সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)


মহানবী (সাঃ) স্বয়ং বলেছেনঃ

• মনে রেখো, জান্নাত ক্লেশে পরিবেষ্টিত, আর জাহান্নাম পরিবেষ্টিত প্রবৃত্তির ইন্ধনের দ্বারা।

তিনি আরো বলেন, মনে রেখো, জান্নাত লাভ বড্ড কঠিন, কিন্তু জাহান্নাম লাভ অতি সহজ।

• কোন মুমিনের অন্তঃকরণে যখন নূর প্রবিষ্ট হয়, তখন তার হৃদয় প্রশান্তি ও ব্যাপ্তি লাভ করে। রাসূলুল্লাহ (স)কে জিজ্ঞেস করা হলোঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! এর কি কোনো আলামত আছে? তিনি জবাব দিলেনঃ দুনিয়ার প্রতি উদাসীনতা সৃষ্টি এবং জান্নাতের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি আর মওত আসার আগেই মওতের জন্য তৈরি হওয়া।

• সাধারণ একজন উম্মতের চাইতে আমার মর্যাদা যতখানি উর্ধ্বে একজন এবাদত গোযারের চাইতে একজন আলেমের মর্যাদাও ততখানি উর্ধ্বে।

তিনি অন্যত্র বলেছেনঃ আলীমের প্রতি একবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করা আমার নিকট রোজা ও কিয়ামসহ এক বছরের ইবাদতের চাইতেও উত্তম।

• ইলম হলো আমলের ইমাম স্বরূপ আর আমল হচ্ছে ইলমের অনুসরণকারী। (অতএব প্রকৃতপক্ষে ইলমই মূল এবং ভিত্তি।)

• ইলম হাসিলের পর নিদ্রা যাওয়া মূর্খতার নিয়ে নামাজ পড়া অপেক্ষা উত্তম।

• প্রত্যেক মুসলমানের উপর ইলম হাসিল করা ফরজ।


উপসংহারঃ 

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমরা প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসি এবং তাঁর মুখনিঃসৃত প্রত্যেকটি হাদীস পরশ পাথরতুল্য। যার সংস্পর্শে এসে জীবন হয়ে ওঠে মহিমান্বিত। সুতরাং শুধু ৪০ হাদীস বা হাদীসে আরবাঈন নয় তাঁর যে কোন হাদীস শরীফের উপর আমলে আমরা সবসময় সচেষ্ট থাকবো। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে আপনার মনোনীত ধর্ম ইসলাম এবং আপনার হাবীব মহানবী সাঃএর সাথে কবুল করুন, আমীন।